সমুদ্রসীমার অঞ্চল (Maritime Zones) বলতে মহাসাগর বা সমুদ্রের সেই সকল অংশকে বোঝায়, যার উপর উপকূলীয় রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অধিকার ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ ১৯৮২ অনুসারে সমুদ্রসীমা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত, যেমন—রাষ্ট্রীয় জলসীমা (১২ নটিকাল মাইল), সংলগ্ন অঞ্চল (২৪ নটিকাল মাইল), একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল বা EEZ (২০০ নটিকাল মাইল), মহীসোপান এবং মুক্ত সাগর। রাষ্ট্রীয় জলসীমার মধ্যে রাষ্ট্র পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে, সংলগ্ন অঞ্চলে শুল্ক, অভিবাসন ও স্বাস্থ্য আইন কার্যকর করা যায় এবং EEZ অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের একচেটিয়া অধিকার রাষ্ট্রের থাকে। মহীসোপান হলো সমুদ্রতলের সেই অংশ যেখানে রাষ্ট্র খনিজ সম্পদ আহরণের অধিকার ভোগ করে, যা বিশেষ ক্ষেত্রে ৩৫০ নটিকাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। মুক্ত সাগর হলো ২০০ নটিকাল মাইলের বাইরে অবস্থিত সমুদ্রাঞ্চল, যেখানে সকল রাষ্ট্র নৌচালনা, বিমান চলাচল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মৎস্য আহরণের স্বাধীনতা ভোগ করে। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের সমুদ্রসীমা আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদের আলোকে তার সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করেছে এবং ২০১২ সালে মায়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষত বাঁকা ও পরিবর্তনশীল উপকূলরেখা এবং পলিবাহিত নদীর কারণে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ জটিল হলেও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে আজ বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে তার ন্যায্য অধিকার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার চার স্তর:
✅রাজনৈতিক জলসীমা/আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা: ১২ নটিক্যাল মাইল
✅সন্নিহিত অঞ্চল (Contiguous Zone): ২৪ নটিক্যাল মাইল
✅একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ): ২০০ নটিক্যাল মাইল
✅মহীসোপান (Continental Shelf): ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more